সামান্য ব্যথাতেও অনেকে পেইন কিলার খেয়ে ফেলেন। একটু বেশি ব্যথা হলে তো কথাই নেই। মুড়ির মতো পেইন কিলার খাচ্ছেন লোকজন। আপনিও অতিরিক্ত মাত্রায় পেইন কিলার খেয়ে থাকলে, এখনই সাবধান হন। এক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য রয়েছে বিপদজনক বার্তা।
ইবুপ্রফেনের (জ্বর, মাথা ব্যাথা, দাঁতের ব্যাথা, ব্যাক পেইন, বাত, মিন্সট্রুয়াল ক্র্যাম্স এর ব্যাথায় ব্যবহার করা হয়) ওপর গবেষণা করে একদল বিজ্ঞানী জানিয়েছে, কোনো পুরুষ অতিরিক্ত মাত্রায় পেইন কিলার খেলে যৌন ক্ষমতা তিনি চিরতরে হারাতে পারেন। পাশাপাশি মানব শরীরের পেশী ভেঙে যাওয়া ও ক্লান্তির মতো নানা সমস্যায়ও পড়তে পারেন।
বিজ্ঞানীরা ১৮ থেকে ৩৫ বছরের পুরুষদের ওপর গবেষণা চালিয়ে এমন তথ্য পান। এ সময়কালে ইবুপ্রফেন খাওয়ার পর পুরুষদের যৌন হরমোনের গতি প্রকৃতি কী অবস্থায় থাকে তা পরীক্ষা করে দেখেন তারা।
এতে দেখা যায়, দিনে দু`বার ৬০০ মিলিগ্রাম করে ইবুপ্রফেন পেইন কিলার ওষুধ তাদের শরীরে টেসটোস্টেরনের মাত্রা বাড়িয়ে দিলেও শরীরের স্বাভাবিক নিয়ম ব্যহত হয়।
কোপেনহেগেনের এক চিকিৎসক বিষয়টি নিয়ে গবেষণায় জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ইবুপ্রফেন খেলে মানব শরীরে স্বাভাবিক টেসটোস্টেরনের উৎপাদনের ক্ষমতায় পরিবর্তন আসে। ওষুধ ছাড়া কমে যায় এর উৎপাদন।
নর-নারীর যৌনতা বিষয়ক পরিপূর্ণ ও তথ্যবহুল ব্লগ; ধর্মীয় ও বিজ্ঞান সম্মতভাবে- যৌনতার নানান দিক, যৌন সমস্যার সমাধান, সফলতার একগুচ্ছ কার্যকর টিপস... JounoSeba
যৌনশক্তি শেষ করে পেইন কিলার : গবেষণা
সেক্সের বৈজ্ঞানিক তথ্য
কম কোলেস্টেরোল! ক্ষমতা বাড়ায়: বিছানায় যারা ভালো অবদান রাখতে পারছেন না তাদের উচিত কোলেস্টেরোলের মাত্রা পরীক্ষা করা। শরীরে কোলেস্টেরোলের মাত্রা বেশি হলে পুরুষাঙ্গ দৃঢ় হওয়ার সমস্যা দেখা
পিল খাওয়া বন্ধ করলে যা হয়
জন্মনিয়ন্ত্রণসহ অনেকসময় বিভিন্ন কারণে ডাক্তারের পরামর্শে মহিলারা পিল গ্রহণ করেন। এই জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া ছেড়ে দিলে নানান রকম প্রভাব শরীরে পড়ে। একটি নারী বিষয়ক ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অবলম্বনে সেসব প্রভাবের বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
বেশি পিরিয়ড ও ব্যথা
অনেক মহিলাই পিএমএস থেকে বাঁচার জন্য পিল খেয়ে থাকেন। যদি খাওয়া ছেড়ে দেন তাহলে অধিক পিরিয়ড হওয়াসহ তলপেটে প্রদাহ বেড়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ইয়েল স্কুল অফ মেডিসিনের ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগবিদ্যা বিভাগের ক্লিনিকাল অধ্যাপক মেরি জেইন বলেন, "পিলের প্রোজেস্টেরন এবং ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ এমনভাবে থাকে যা, শরীরে ডিম্বাণু উৎপাদন কার্যপদ্ধতি বন্ধ রাখে। তবে এই কার্যপদ্ধতির জন্যই অনেক মেয়ে মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথা অনুভব করেন।"
ওজন পরিবর্তন
'ভি ইজ ফর ভাজাইনা' গ্রন্থের সহলেখক অ্যালিসা ডোয়্যাক এম.ডি বলেন, "পিল খাওয়া শুরুর পর এক তৃতীয়াংশ মহিলার ওজন কমে, এক তৃতীয়াংশ মহিলার ওজন বৃদ্ধি পায় এবং এক তৃতীয়াংশ মহিলা একই রকম থাকেন।"
পিল গ্রহণের সময় বিভিন্ন কারণে ওজন বাড়তে পারে। অন্যতম কারণ হলো খাদ্যাভ্যাস বা শরীরে পানি ধারণ করা অথবা বাড়ন্ত বয়সে পিল খাওয়া শুরু করা। তবে পিল খাওয়া ছেড়ে দিলে ওজন কমার কারণ হচ্ছে পানি। শরীরে পানি ধারণের পরিমাণ কমে যায় বলে, মনে হয় ওজন কমে গেছে।
স্তনের আকার হ্রাস
পিল গ্রহণের সময় যদি স্তনের আকার বড় হয় তাহলে অন্যতম কারণ হচ্ছে পিলের প্রোজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন উপাদান। তাই পিল ছাড়ার পর স্তন আবার আগের আকারে ফিরে যেতে পারে। যদিও এই প্রক্রিয়াটা খুব কম মহিলার ক্ষেত্রেই হয়। জানান ডা. ডোয়্যাক।
অতিরিক্ত সাদা স্রাব
ডা. ডোয়্যাক জানান, পিলের কাজ হচ্ছে শরীরে ডিম্বাণু তৈরি প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা। তাই পিল খাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরের গ্রন্থি থেকে রসক্ষরণ ঘটানোর প্রক্রিয়া কমে থাকে। আর পিল ছেড়ে দিলে এই প্রক্রিয়া কার্যকর হয়ে যায়, আর মাসের বিশেষ সময়ে বিশেষ জায়গায় আদ্রতার পরিমাণ বাড়ে।
যৌনাকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি
যদিও খুব কম মহিলার ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা ঘটে, তবে অনেকেই অভিযোগ করেন যে, পিল খাওয়া শুরু করার পর থেকে যৌনাকাঙ্ক্ষা কমে গেছে।
পিল যেহেতু ডিম্বাণু উৎপাদন ক্ষমতা বন্ধ রাখে সে কারণে এই আকাঙ্ক্ষা কম হতেও পারে। অনেকের যোনিতে শুষ্কভাব অনুভূত হতে পরে। তাই পিল খাওয়া ছেড়ে দিলে শরীরে আবার ডিম্বাণু উৎপাদন শুরু হওয়ার পাশাপাশি যৌনাকাঙ্ক্ষা বাড়তে পারে বলে জানান, ডা. ডোয়্যাক।
তবে এটা খুব কম সংখ্যাক মহিলার ক্ষেত্রেই ঘটে।
হতে পারে ফুষ্কুড়ি
পিল খাওয়া শুরু করার পর অনেকের ফুষ্কুড়ি বা ব্রন হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তবে পিল বন্ধ করে দিলে আবার সেগুলো ফিরে আসতে পারে।
এর কারণ হিসেবে ডা. ডোয়্যাক জানান, পিল খাওয়ার ফলে শরীরে টেসটোসটেরনের পরিমাণ কামিয়ে দেয় যা ত্বকের উপর কম প্রেভাব ফেলে। তবে পিল খাওয়া বন্ধ করে দিলে আবার ত্বকের কোষকলা বেশি ভাঙতে শুরু করে আর সেই থেকে ফুষ্কুড়ি বা ব্রন ফিরে আসে।
গর্ভবতী হওয়া
পিল খাওয়া বন্ধ করলে দ্রুত গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ে। যদি অন্য কোনও নিরধক ব্যবহার করা না হয়।
ডা. ডোয়্যাক বলেন, "অবশ্য এটাই স্বাভাবিক। বন্যার হাত থেকে বাঁচতে বাঁধ দেওয়া হয়। বাঁধ খুলে দিলে পানির তোড় তো বেশি হবেই। এখানেও একই ব্যাপার ঘটে।"
মাসিকের ব্যথা কমানো উপায়
মাসের বিশেষ সময়ে মাত্রাতিরিক্ত পেট ও পিঠ ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহার করা যেতে পারে গরম পানি ভর্তি ব্যাগ এবং এড়িয়ে চলুন কিছু খাবার।
মাসিকের সময় তল পেট এবং পিঠে ব্যথা হলে গরম পানি ‘হট ওয়াটার ব্যাগ’য়ে ভরে কিছুক্ষণ চেপে রাখলে আরাম পাওয়া যায়, এমনটাই জানান দিল্লির ইরেনে আইভিএফ সেন্টারের পরিচালক ইন্দিরা গনেশান।
তিনি এই ব্যথা উপশমের জন্য আরও কিছু পরামর্শ দেন।
- তল পেটে এবং পিঠের নিচের অংশে গরম পানি ভর্তি হট ওয়াটার ব্যাগ চেপে ধরে রাখলে ব্যথা অনেকটাই কমে আসবে। তাছাড়া বেশি অসুস্থ বোধ করলে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করে নিলেও উপকার পাওয়া যাবে।
- আদা চা, জেসমিন টি, ক্যামমাইল টি শুধু যে ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে তা নয়, রক্ত ক্ষরণের ফলে শরীরের পানির ভারসাম্যও রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
- এ সময় প্রচুর ভিটামিন বি, ই, সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এই উপাদানগুলো মাসিকের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
- আঁশ সমৃদ্ধ খাবার, প্রচুর ফল ও সবজি খেতে হবে। কারণ এই খাবারগুলোতে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। তাছাড়া এ সময় ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা রসের শরবত ও পেঁপে খেলেও ব্যথায় আরাম পাওয়া যাবে।
- অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার, মাংস এবং শুঁটিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
- অতিরিক্ত চা ও কফি, অর্থাৎ ক্যাফেইন এড়িয়ে চলতে হবে। তাছাড়া এ সময় ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ এড়িয়ে চলতে হবে।
- হালকা ব্যয়াম এ সময় ব্যথা উপশমে বেশ কার্যকর। তাছাড়া যে কোনো এসেনশিয়াল তেল দিয়ে হালকা মালিশেও ব্যথা কমে আসবে।
- অতিরিক্ত ব্যথা হলে ব্যথা কমানোর ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
টেস্টোস্টেরন বাড়ায় যেসব খাবার : How to Increase Testosterone Naturally
টেস্টোস্টেরন হরমোনের ঘাটতি হলে পুরুষের শরীরের নানান রকম সমস্যা হতে পারে। বয়স ত্রিশ পেরোনোর পর পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের পরিমাণ কমতে শুরু করে। ফলে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের পাশাপাশি কামবাসনা কমে যাওয়া, লিঙ্গোত্থানে সমস্যা, খারাপ মেজাজসহ মনোযোগের অভাব দেখা দেয়।
দাম্পত্যে যৌন উত্তেজনা ফেরাতে হলে
দাম্পত্য জীবনে সেক্স অত্যাবশ্যকীয় না হলেও আবশ্যক। কোনো কারণে যদি শারীরিক উষ্ণতা কমে যায়, ভালোবাসা এবং সমঝোতার মাধ্যমে তা ফিরিয়ে আনা যায়।
সম্পর্কবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বাইরে থেকে যেমনই দেখাক, সম্পর্কের ভিত্তিতে শারীরিক সম্পর্কের একটা বাঁধন সব সময় থাকে। এ বাঁধন কোনো কারণে আলগা হয়ে গেলে তার প্রভাব সম্পর্কের স্থায়িত্বের উপর পরে।
প্রতিকারের জন্য তাই দরকার পারস্পারিক সমঝোতা।
রোগ নির্ণয় আবশ্যক: যুক্তরাষ্ট্রের সাইকোথেরাপিস্ট এবং লেখক মারি জো রাপিনি বলেন, “লোকে ভাবে যে, শারীরিক সম্পর্কে ভাটা আসার বিষয়টা খুবই অস্বাভাবিক এবং সে একাই এই সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আসলে সত্য হচ্ছে এটা একটা সার্বজনীন সমস্যা। অনেকেই জীবনের একটা পর্যায় এই সমস্যার মধ্য দিয়ে যান।”
শারীর সম্পর্ক স্থাপনে ব্যাঘাত ঘটার সাধারণ কারণও থাকতে পারে। এর মধ্যে কাজের চাপ, শারীরিক অসুস্থতা, উচ্চ রক্ত চাপ, ডায়বেটিস, হরমোনের সমস্যা থাকতে পারে। এই সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে।
রাপিনির মতে, “সবসময় সমস্যা এত গুরুতরও হয় না। অনেক সময়ই নির্দিষ্ট রুটিনে নিজেদের আটকে ফেলার ফলে যুগলের মতো আচরণ না করে সাধারণ বন্ধুর মতো আচরণ করেন। ফলে এক পর্যায়ে তাদের সম্পর্কে ভাটা এসেই যায়।”
সমস্যা যাই হোক না কেনো দুজনের স্বাস্থ্য নিয়মিত পরীক্ষা করা আবশ্যক। হয়ত ‘সেক্স’ করার মতো মানসিক বা শারীরিক অবস্থায় কেউ নেই, তবে সঙ্গীর কাছে সমস্যাটার বিষয়ে অকপট হতে হবে। সমস্যা নির্ণয় করতে হবে এবং তার প্রতিকারও বের করতে হবে, পরামর্শ দিলেন রাপিনি।
সময় এবং সততার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা: কাজের এবং জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনা যায়। কাজের মতো রুটিন করে তো আর ভালোবাসা-বাসি করা সম্ভব নয়। তবে সপ্তাহের একটা রাতকে “ভালোবাসার রাত” ঘোষণা করে দেওয়া যায় জানান সান্টা মনিকায় অবস্থিত হল সেন্টারের পরামর্শদাতা ডা. প্রুডেন্স হল।
তার মতে, “ভালোবাসাটাও একটা অনুশীলনের বিষয়। আমরা যেমন ব্যায়াম করতে বা মেডিটেশন করতে ভালোবাসি না, কিন্তু জানি এটা আমাদের জন্য কত উপকারী। তেমনি সময় ধরে ভালোবাসা শুনতে খারাপ শোনালেও এটা আসলে একটা সফল সম্পর্কে জন্য খুবই দরকার।”
প্রতিদিন ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি: সঙ্গীকে যত স্পর্শ করা যায় ভালোবাসা ততই বাড়ে। তাই কিছুটা সময় গা ঘেঁষে থাকলেও ভালোবাসা তৈরি হয়। ভালোবাসা জাগিয়ে তোলার জন্য তাই স্পর্শের কোনো তুলনা নাই জানান ড. রাপিনি।
তার মতে, “স্পর্শের মতো ছোট বিষয়গুলোকেও উপেক্ষা করা ঠিক না। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই সম্পর্কে উষ্ণ রাখে। তাই সাধারণ সিনেমা দেখার মুহূর্তে হাত ধরে রাখা বা বিদায় জানানোর সময় চুমু খাওয়ার মতো সামান্য বিষয়গুলো জীবন থেকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।”
বিশেষ উপলক্ষ্যে একে অপরকে উপহার দেওয়া, একজনের অনুপস্থিতেও তার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে রাখার মতো কাজগুলোকেও অবহেলা করা যাবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলেন সম্পর্কে ‘ভাটা’ তখনই আসে যখন দম্পতিদের মধ্যে বাঁধন তৈরি করার ছোট ছোট সুখগুলো হারিয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া: যখন নিজেদের চেষ্টাতেও সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারে না তখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। হতে পারে সে কোনো মনরোগ বিশেষজ্ঞ, অথবা চিকিৎসক।
অনেক সময়ই আমরা নিজেরা নিজেরা সমস্যার সমাধান করে উঠতে পারি না। তবে বিশেষজ্ঞরা তাদের জ্ঞান এবং ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা দিয়ে আরও ভালোভাবে সাহায্য করতে পারেন।
যৌন চাহিদা বাড়াতে মসলাদার খাবার খান
খাবারের স্বাদ ও গন্ধ বাড়াতে মসলার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ মানুষ মসলাদার খাবার পছন্দ করেন। এসব মসলা শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। স্বামীকে রাতে ঝাল খাবার দিন। কারণ ‘হট’ খাবার ছেলেদের আরও ‘হট’ করে তোলে। আর এই তথ্য গবেষণা করে বের করছেন একদল ফরাসি গবেষক।
‘সন্তান নেওয়ার প্রচেষ্টাকে সফল করে সঠিক জীবন যাপন’
বিয়ের পরে প্রথম কয়েকটা বছর বেশ ভালোই কাটে যেকোনো স্বামী-স্ত্রীর। একটা পর্যায়ে গিয়ে অনুভব করে সংসারে একজন নতুন অতিথি আসা দরকার। হ্যাঁ, সন্তানের আবশ্যকতা থেকেই বংশবিস্তার ঘটে। এগিয়ে যায় মানব প্রজন্ম।
তবে সব দম্পতি সন্তান ধারনের ইচ্ছা পোষন করলেও অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় বেশ কিছু জটিলতা। সঠিক চিকিৎসা, সঠিক সময়ে বিয়ে হওয়া, সঠিক সময়ে সন্তানধারণ ও সুন্দর স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন মেনে চললে এই জটিলতাকে অনেক ক্ষেত্রে জয় করা সম্ভব বলে মনে করেন দেশের তরুণ ও সুপরিচিত পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইনের প্রতিবেদক আলী আদনান ।
একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আজকাল অনেকেই সন্তান ধারনে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, এর প্রধান কারণগুলো কী কী?
তামান্না চৌধুরীঃ নানা কারণে সন্তান না হওয়ায় আজকাল সমস্যা হয় বলে মনে করা হয়। শারিরীক সমস্যা ছাড়াও আরো বেশ কিছু বিষকেই দায়ী করা হয় যেমন: ধূমপান ও মাদক গ্রহণ, সঠিক বয়সে বিয়ে না হওয়া ও সন্তান না নেওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া, মানসিক অশান্তি বা ডিপ্রেশনে ভোগা ইত্যাদি।
একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ সন্তান হচ্ছে না, এ ক্ষেত্রে আপনি সাধারণত যেসব রোগী পান তাদের কেস হিস্ট্রি কেমন?
তামান্না চৌধুরীঃ সমস্যা নারী- পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। আমাদের সমাজে কুসংষ্কার আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে থাকায় অনেকে সন্তান না হওয়ার দায়ভার শুধু মেয়েদের ওপর চাপায়। এটা কাম্য নয়। নানা কারণে সন্তান ধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকে বিয়ের পর দেরি করে বাচ্চা নেয়। তখন দেখা যায় সে গর্ভধারণ করার সক্ষমতা রাখছে না। আবার অনেকে অল্প বয়সে বিয়ে করল। প্রথম দিকে অ্যাবরশন (গর্ভপাত) করালো। এ রকম ক্ষেত্রেও অনেক সময় পরবর্তীতে সন্তান ধারণে সক্ষমতা থাকেনা। নারী বা পুরুষ যে কারো ক্ষেত্রে বা দুজনেরই ওজন বেশী হওয়া সন্তান ধারণে সমস্যার জন্য অন্যতম কারণ হতে পারে।
আমাদের কাছে যেসব কেসগুলো আসে তাতে দেখা যায়, যাদের ওজন বেশি, ওভাম বা স্পার্ম কাউন্ট কম, অতিরিক্ত বা ওজন বেশি হওয়ায় হরমোনাল চেঞ্জ হয় ইত্যাদি। নারীদের ক্ষেত্রে ওজন বেশী হলে পিরিয়ডে সমস্যা দেখা দেয়। সাধারনত আমাদের কাছে যেসব রোগী আসে তাদের কাছেই আমরা এসব কেস হিস্ট্রি পাই।
একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ বন্ধ্যত্বের সমস্যা কি জয় করা সম্ভব?
তামান্না চৌধুরীঃ অবশ্যই সম্ভব। সামান্য কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই এই সমস্যা জয় করতে পারে। যেমন: অনেক মেয়েদের অতিরিক্ত ওজন হওয়ার কারণে সন্তান ধারন করতে পারছে না। তারা যদি সঠিক ভাবে নিয়ম মেনে বিশেষজ্ঞের উপদেশ মতো চলে ওজন কমাতে পারে, তবে খুব সহজেই সে গর্ভবতী হতে পারে। এছাড়া সঠিক সময়ে বিয়ে করা, অতিরিক্ত কাজের চাপ না নেওয়া বা কাজের মাঝে বিশ্রাম নেওয়া, মানসিকভাবে প্রশান্তিতে থাকা, স্বামী- স্ত্রীর ভাল বোঝাপড়া, সুষম খাদ্য গ্রহণ করা ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন করাও জরুরি।
একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন বলতে কী বুঝাচ্ছেন?
তামান্না চৌধুরীঃ পুরুষদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত জীবন বলতে বুঝাচ্ছি ধূমপান না করা ও সব ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকা। দূষণ ও বিষাক্ত পদার্থ থেকে দূরে থাকা, যে সব ওষুধের ব্যবহারে সমস্যা দেখা দেয় তা এড়িয়ে চলা, ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখা, খাবার ও ঘুমসহ সবকিছুতে নিয়ম মেনে চলা। নারীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়াম করা, ( আমরা প্রতিদিন এক ঘন্টা হাঁটার পরামর্শ দিই।) মেদবৃদ্ধি ও স্থুলতা প্রতিরোধ করা, ক্যাফেইনযুক্ত দ্রব্যের ব্যবহার সীমিত করা, ধূমপান ও মাদক এড়িয়ে চলা, হাসি খুশী থাকা, সঠিক পরিমাণে বিশ্রাম নেওয়া। মূলত এসব নিয়ম মেনে চললে সন্তান না হওয়ার জটিলতা অনেকটাই কেটে যায়।
একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আপনাকে ধন্যবাদ। সুন্দর পরামর্শের জন্য।
তামান্না চৌধুরীঃ আপনাকেও ধন্যবাদ। একুশে পরিবারের জন্য শুভেচ্ছা।
‘‘তামান্না চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রী অর্জন করার পর, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পোষ্ট গ্রাজুয়েট করেছেন ডায়াবেটিস শিক্ষা বিষয়ে। এ পুষ্টিবিজ্ঞানী দীর্ঘ ১৪ বছরের বেশী সময় ধরে দক্ষতার সঙ্গে ক্লিনিক্যাল পুষ্টিবিদ্যায় কাজ করে যাচ্ছেন। তামান্না চৌধুরী আন্তর্জাতিকভাবে কেস উপস্থাপনায় অংশগ্রহণ করে প্রশংসিত হয়েছেন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন পত্রিকা, অন লাইন নিউজ, ম্যাগাজিনে তার ৫২০টিরও বেশি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
ইএসপিএন আয়োজিত বিশ্ব পুষ্টি জরিপ সনদে তামান্না চৌধুরী চারবার টিমলিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অংশ নেন ২১ টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুষ্টিবিদ্যা সংক্রান্ত সেমিনারে। পুষ্টি ও অভ্যন্তরীণ পুষ্টি সংক্রান্ত সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এ পুষ্টিবিদ বক্তা হিসেবে ৬৩ টির ও বেশী কর্পোরেট হাউজে ( ইউএস এম্বাসি, সেভরন, ইউনিসেফ, ইউনিলিভার,বাংলালিংক, বিপিডিবি) স্বাস্থ্য বিষয়ক বক্তব্য দিয়েছেন।’’

